শ্রমজীবীদের অধিকার আদায়, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও তরুন নেতৃত্ব নিয়ে “বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কনফেফারেশন-বিটিইউসি” এর আত্মপ্রকাশ।
আজ ৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কনফেফারেশন বিটিইউসির “আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন
দেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে প্রায় ৭,৩৪,৬০,০০০ শ্রমিক যার মধ্যে তরুন ও নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশী, কৃষি- ৪৫ ভাগ, শিল্প- ১৭ ভাগ, সেবা- ৩৮ ভাগ শ্রমিক কাজ করে, শ্রমিকের শ্রমে ও ঘামে চলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা, দেশের জিডিপির সিংহভাগ অর্থ যোগান আসে গার্মেন্টস, অভিবাসী, চামরাজাত পন্য, ফুটওয়্যার, ঔষধ ও কৃষি ইত্যাদি সেক্টর থেকে। শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীন ও বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশ আজ মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে রোল মডেল হয়ে। যারা এই দেশ গড়ার কারিগর, উন্নয়নের রুপকার ও ত্যাগস্বীকারকারী শ্রমজীবী মানুষ। সকল শ্রমিকদের শ্রম আইনে স্বীকৃতি নাই, জাতীয় নিম্নতম মজুরী নাই, আইএলও কনভেনশন মোতাবেক কর্মঘন্টা, ছুটি, প্রসুতিকল্যান সুবিধা, ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার অভাব, প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রশিক্ষন ও কর্মসংস্থান এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা গুরুপূর্ণ বিষয় বিধায় কনফেডারেশন গঠন করা হলো। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন-বিটিইউসির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ, সভাপতি-বাংলাদেশ ওয়ার্কস ফেডারেশন, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জনাব বাবুল আক্তার, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন।
সভার সভাপতি ও বাংলাদেশ ওয়ার্কস ফেডারেশন সভাপতি জনাব কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বাংলাদেশের শ্রমজীবীদের দীর্ঘ দিনের আখাংকা পূরণ হলো স্বাধিনতার ৫৩ বছর অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশে কোন কনফেডারেশন গঠিত হয় নাই এর ফলে ১১৫টি সেক্টরের শ্রমিকদের বিভিন্ন মৌলিক অধিকার, সামাজিক ও রাজজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক জনাব বাবুল আক্তার বলেন, দেশে গনন্ত্রাতিক শ্রম আইন প্রনণায়ন না হওয়ার ফলে শ্রমিকদের কর্মঘন্টা, মজুরী, নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, মানবাধিকার, যৌথ দরকষাকষি, শিল্প সম্পর্ক, শোভনকাজ ও সামাজিক নিরাপত্তার অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক জোট- সভাপতি জনাব মোশারফ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত শ্রমিক ও যে কোন মহামারি কালিন সময়ে কর্মরত সকল শ্রমিক ও কর্মচারীদের ঝুঁকিভাতা ঘোষনা, সকল সেক্টরে কর্মরত নারী শ্রমিকদের জন্য ৬মাস প্রসুতি কল্যান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফোরাম- সভাপতি জনাব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শ্রমজীবীদের জন্য একটি অভিন্ন মজুরী কাঠামো থাকতে হবে যা জাতীয় নিম্নতম মজুরী হিসাবে গন্য হবে। অতঃপর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিটি সেক্টরে জন্য আলাদা আলাদা মজুরী কাঠামো ঘোষনা করতে হবে। এই মজুরী কাঠামো কোন ভাবেই জাতীয় নিম্নতম মজুরী হারের চেয়ে কম হবে না, তবে বেশী হতে পারবে।
কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন- সাধারন সম্পাদক জনাব এম এ ফয়েজ হোসেন বলেন, প্রতিটি শ্রম সেক্টরে, জেল শহরে, শ্রমঘন অঞ্চলে শ্রমজীবীদের জন্য স্থায়ীভাবে কলোনী, আধুনিক পরীক্ষাগারসহ হাসপাতাল, উপসনালয়, স্কুল এবং আধুনিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র চালু করতে হবে। সহ শ্রমিকদের
কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন- ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব মোঃ শাহ-আলম, বেকার শ্রমজীবী, অক্ষম শ্রমজীবী, বয়স্ক শ্রমজীবী এবং অবসরকৃত শ্রমজীবীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো/ বলয় গড়ে তুলতে হবে।
কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন-সাধারণ সম্পাদক জনাব নাহিদুল হাসান নয়ন বলেন, সকল আইএলও কনভেনশন এবং শ্রমজীবীদের জন্য সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষনা ও পলিসির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং বর্তমান শ্রম আইন ও শ্রম বিধিতে উল্লেখিত শ্রমজীবীদের স্বার্থের পরিপন্থি কালো ধারা-উপধারা, বিধি-উপবিধি বাতিল
করে গনতান্ত্রিক শ্রম আইন এবং শ্রম বিধিমালা প্রনয়ন করতে হবে।
কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন-সভাপতি- রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, বাংলাদেশের সকল শ্রমজীবীদের শ্রম আইনে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানপূর্বক সবার জন্য এক ও অভিন্ন শ্রম আইন কার্যকর করতে হবে এবং ইপিজেট ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরত সকল শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং যৌথ দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও জাতীয় তৃর্ণমূল শ্রমিক ফেডারেশন- সভাপতি জনাব শামীম খাঁন বলেন, শিল্প সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রতিটি শিল্প এলাকায় শিল্প সম্পর্ক উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করতে হবে। উক্ত কেন্দ্র থেকে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে শিল্প সম্পর্ক প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত করতে হবে। পাঠ্য-পুস্তকে নবম শ্রেণী থেকে শ্রম অধিকার,
মানবাধিকার ও মালিক-শ্রমিকের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে একটি অধ্যায় যুক্ত করতে হবে। কনফেডারেশন সমন্বয়ক ও জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী জোট- সাধারন সম্পাদক জনাব গোলাম রব্বানী জামিল বলেন, জাতীয় ত্রি-পক্ষীয় কমিটি, নিম্নতম মজুরী বোর্ড, শ্রম আদালত, শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় তহবিলসহ শ্রম মন্ত্রণালয়ে যেসব কমিটি রয়েছে প্রতিটি কমিটিতে কনফেডারেশনের প্রতিনিধি অর্ন্তভূক্ত করতে হবে। বিগত দিনে
অনিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত সকল কমিটি বাতিল করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা- কল্পনা আক্তার সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল শ্রমিক
ফেডারেশন, মোশারফ হোসেন মন্টু, সাধারন সম্পাদক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক জোট, কুদরত-ই খোদা, সভাপতি,
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন, রানী খান, সভাপতি, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন, ফাতেমা আক্তার ফারিন, সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় তৃর্ণমূল শ্রমিক ফেডারেশন, মনি মোহন বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফোরাম, মোঃ শহীদুল্লাহ, সহ-সভাপতি, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, সুমাইয়া ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, লায়লা আক্তার, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী জোট ও বিভিন্ন বেসিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।