ওয়েবসাইট জাল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ)। সেই জাল ওয়েবসাইটকে পুঁজি করে ভুয়া মেসেজ পাঠিয়ে কাস্টমার ধরার মোক্ষম ফাঁদ পেতেছিলো একটি ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্র। শিক্ষক পদে অগণিত চাকরি প্রার্থীর লাখো কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো তারা।
প্রত্যেক মক্কেলের কাছ থেকে তারা নিতেন আট থেকে দশ লাখ করে টাকা। কর্তৃপক্ষের সুপারিশপত্র যাচাই করার সুযোগ না থাকায় সহজেই এমপিও পেয়ে যান মক্কেলরা। ফলে এই প্রতারণা ব্যবসা হয়ে ওঠে জমজমাট। সম্প্রতি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জোর প্রচেষ্টায় এই চক্রের দুই হোতা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পর এমন ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, কিছু দিন আগে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে এনটিআরসিএর সুপারিশপত্র জাল করে ও ভুয়া মেসেজ পাঠিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ আসে। তার প্রেক্ষিতে উপপরিচালক জাকির হোসাইনের উদ্যোগে রাজধানীর মতিঝিল থানার ডিবি পুলিশ অভিযানে নামে। ডিবির অভিযানে সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা কাপাসিয়ার আশরাফুল ও আবদু্ল্লাহ গ্রেফতার হন। তাদের দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদে সিন্ডিকেটের মূল হোতা সুমনের নাম বের হয়। তারপর সুমনকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হলেও তিনি পালিয়ে যান।
জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল জানান, প্রতি শিক্ষকের কাছে ৮-১০ লাখ টাকা নেয়া হতো। এই টাকার একটি অংশ মাদরাসার বা স্কুল বা কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে দেয়া হতো। এই চক্রের তৈরি করা এনটিআরসিএ এর ভুয়া সুপারিশপত্রে স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় হাজার হাজার শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন।
আশরাফুল আরো জানিয়েছেন, যখনই এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের সুপারিশ করে, সেই সময়টাতেই চলে ভুয়া সুপারিশপত্র ইস্যুর কাজ। এনটিআরসিএর সুপারিশপত্র যাচাই করার সুযোগ না থাকায় ভুয়া সুপারিশধারীরা সহজেই পেয়ে যান এমপিও।
শিক্ষা প্রশাসন এই চক্রকে নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ভুয়া সুপারিশে যারা এমপিওভুক্ত হয়েছেন তাদেরকেও চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।